• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মামলা না থাকলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক পৌর মেয়রকে গ্রেপ্তারের দাবি সম্ভাব্য প্রার্থী যুবদল নেতার স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগের নেতা–কর্মীদের অংশগ্রহণ প্রশ্নে যা বললেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আওয়ামী লীগের প্রচারপত্র তৈরি, সাবেক নারী ইউপি সদস্যসহ দুজন গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: কুমিল্লায় ২০৮ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, ৪৮ জন কারাগারে নাটোরে থানার ভেতরে আওয়ামী লীগ নেতার দলীয় স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল ই-জিপিতে ‘ফ্যাসিস্টের লোক’ কাজ পাচ্ছে, ব্যবস্থা চান বিএনপির সংসদ সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে সাঁটানো হয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার নোয়াখালীতে বিএনপি–আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে আগুন, ভাঙচুর

খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে পরিত্যক্ত থাকা খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো দলের নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। রোববার বিকেলে নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে প্রবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একদল নেতা–কর্মী।

এ সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কার্যালয়ে আসা নেতা–কর্মীদের একজন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তিনি নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। আজ রোববার চারটার দিকে আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি।’ জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে নতুন কার্যালয়ে একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাধা দেয়নি।’

দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন দাবি করে ওই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আগামী যেকোনো কর্মসূচির জন্য আমরা প্রস্তুত, শুধু ডাক বা নেতৃত্বের অপেক্ষা।’ তাঁর দাবি, তাঁরা ২৫–৩০ জন ছিলেন। সবাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা সেখানে ছিলেন না।

তবে ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ ও সদর থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেলের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওতে কার্যালয়ে আসা নেতা–কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়।

আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে খুলনা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে  অগ্নিসংযোগ করা হয়। আজ রোববার সন্ধ্যায়
আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে খুলনা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আজ রোববার সন্ধ্যায়ছবি: প্রথম আলো

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন একটি অবৈধ সরকার ছিল, মবের রাজত্ব চলছিল। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে।

আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে হিসেবেই আমাদের নেতা–কর্মীরা আজ কার্যালয়ে গেছেন। আমাদের ওপর যে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ছিল, আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি, শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

এদিকে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা।


আরো পড়ুন:
bdit.com.bd